Monday, 23 July 2018

***পাবলিক ভার্সিটি থেকে এতো স্টুডেন্ট BCS ক্যাডার হয় কিন্তু অন্য ভার্সিটি থেকে এতো কম কেন?

***পাবলিক ভার্সিটি থেকে এতো স্টুডেন্ট BCS ক্যাডার হয় কিন্তু অন্য ভার্সিটি থেকে এতো কম কেন?
.
এই প্রশ্নের ব্যাখ্যা একেকজন একেকজনের মতো করে দিবে। আর  দেয়াটাই স্বাভাবিক।  কিন্তু আমি আজ আমার ব্যক্তিগত জীবনের অভিজ্ঞতা থেকে কিছু শেয়ার করবো।
আমি মনে করে করি এর পিছনে প্রধানত ৩টি কারণ নিহিত।
.
১. অন্য ইউনিভার্সিটির স্টুডেন্টদের অধিকাংশই পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য ট্রাই করার পর কোথাও চান্স না পেয়ে (কিছু ব্যতিক্রম ছাড়া) ন্যাশনালে বা পাইভেটে ভর্তি হয়। এরপর তারা ভাবে আমাকে দিয়ে আর কিছুই হবে না, পাবলিক ইউনিভার্সিটিতে চান্স হলো না! আর এখানেই তারা ৫০% হেরে যায়। পাবলিক ভার্সিটি চান্স পাওয়াই জীবনের সব সফলতা নয়, জীবনের বড় বিষয় হলো আপনি পড়াশোনার মাধ্যমে যে ক্যারিয়ার গড়তে চান, ফাইনালি সেই ক্যারিয়ার কে গড়তে পারলো, আর কে পারলো না সেটাই বড় বিষয়।
.
২. যথাযথ গাইডলাইনের অভাব। প্রত্যেক বছর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শত শত স্টুডেন্ট বিসিএস ক্যাডার হয়। ফলে যারা পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ে তারা সহজেই বিসিএস ক্যাডারদের সান্নিধ্য পায় এবং তারা কাছ থেকে টিপস ও গাইডলাইন নিয়ে BCS-সহ অন্যান্য চাকরির প্রস্তুতিতে এগিয়ে যায়। অনার্স-মাস্টার্স শেষ হওয়ার আগেই যেখানে তারা বিসিএস ও জব রিলেটিভ ম্যাক্সিমাম বই পড়ে শেষ করে ফেলে, যেখানে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করার পড় অন্য ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ স্টুডেন্ট জানতে চায় বিসিএস, ব্যাংক ইত্যাদি পরীক্ষার জন্য কী কী বই পড়ব?
.
৩. ন্যাশনাল বা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির অধিকাংশ স্টুডেন্টের কাছে পড়াশোনাটা অপশনাল বিষয় আর অন্য সকল বিষয় অধিক গুরুত্বপূর্ণ । তারা বেশির সময় দেখা যায় কেবল পরীক্ষার আসলে কিছুটা পড়াশোনা করে, সারা বছর বইয়ের সাথে কোনো যোগাযোগ নেই। এমনও অনেক স্টুডেন্ট দেখেছি তারা অনার্স-মাস্টার্সের কোন দিন কোন পরীক্ষা দিচ্ছে পরীক্ষার হলে প্রশ্ন হাতে পাওয়ার আগ পর্যন্ত বলতে পারে না। যেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন স্টুডেন্ট সকাল ৮টায় সেন্ট্রাল লাইব্রেরিতে ঢুকার জন্য সকাল ৬.৩০ থেকে লাইন ধরে দেড় ঘণ্টা সময় পড়ার সিট পাওয়ার জন্য লাইনে অপেক্ষা করে সেখানে খুব কম স্টুডেন্ট আছে ন্যাশনাল বা প্রাইভেট ইউনিভার্সিটির যে দৈনিক দেড় ঘণ্টা পড়ে না।
* মূল কথা হলো BCS-সহ যে কোনো চাকরির পরীক্ষার জন্য আত্মবিশ্বাসটা অনেক বড় বিষয় সাথে যথাযথ গাইডলাইন।  যেমন আরব জাতি যখন সুপথ হারিয়ে ফেলেছিল তখন মহান আল্লাহ তা'য়ালা হযরত মুহাম্মদ (স) প্রেরণ করেছিলেন তাদের গাইডলাইন প্রদানের জন্য । অতএব গাইডলাইন বড় একটি বিষয় লাইফে সাকসেস হতে গেলে।
আসলে কোনো বিশ্ববিদ্যালয় বা সাবজেক্ট  কাউকে ভালো জব পাইয়ে দেয় না, সেটা জন্য নিজেই চেষ্টা শ্রম থাকা লাগে। সেই জন্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সবাই BCS ক্যাডার কিংবা ব্যাংকার হয় না, ন্যাশনাল ও প্রাইভেট  ইউনিভার্সিটি থেকেও অনেকের হয় । পার্থক্য হলো কম আর বেশি। আপনি দেখুন না, যদি শুধু পাবলিক ভার্সিটি আর ভালো সাবজেক্ট (তথা কথিত ভালো সাবজেক্ট!) এর স্টুডেন্টরাই শুধু BCS ক্যাডার, ব্যাংকার, ভালো ভালো অন্যান্য জব পেতে বাংলাদেশের আরা কেউ BCS ক্যাডার, ব্যাংকার হতে পারতো না,  ভালো জব পেত না।  সেইজন্যই বলি, যে আত্মবিশ্বাসী ও পরিশ্রমী  সে যেখানেই পড়ুক না কেন আর যে সাবজেক্টেই পড়ুক না কেন সে ভালো করবেই। পাবলিক ইউনিভার্সিটি থেকে শুধু যারা পরিশ্রম, টেকনিক অবলম্বন  করেছে তারা যেমন চাকরি পেয়েছে, সবাই পায়নি। ঠিক তেমনিভাবে ন্যাশনাল, প্রাইভেট ভার্সিটি থেকেও যারা পরিশ্রম করেছে, টেকনিক অবলম্বন করেছে শুধু তারা বিসিএস ক্যাডার,  ব্যাংকার হয়েছে,  ভালো জব পেয়েছে।
সারকথা হলো জীবন সফল হতে গেলে বড় স্বপ্ন থাকতে হবে, সেই স্বপ্ন পূরণের ইচ্ছা থাকতে হবে আর সেই ইচ্ছা পূরণের জন্য দৃঢ়তার সাথে নিরলস পরিশ্রম করতে হবে, বিশ্ববিদ্যালয় কিংবা সাবজেক্ট কোনোটাই বড় বিষয় নয়। BCS-টা হলো আত্মবিশ্বাস, টেকনিকের খেলা। যার মধ্যে এই দুটি বিষয় থাকবে সে ৫০% এগিয়ে যাবে, আর বাকি ৫০% তাকে পড়াশোনা করে অর্জন করতে হবে।  আর তাই আত্মবিশ্বাসীরা অল্প পড়েও টেকনিক অবলম্বন করে বিসিএসে বারবার টিকে যায় আর অনেকে আছে রাত-দিন পড়েও একবারও টিকে না আত্মবিশ্বাস ও টেকনিকের অভাবে।
*একটি বিষয় মনে রাখবেন, কে কোন ভার্সিটিতে পড়েছে,  কোন বিষয়ে পড়েছে সেটা বড় কথা নয়, পড়াশোনা শেষ করে কে কী করতে পেরেছে সেটাই বড় কথা।
__________________________________
©©© গাজী মিজানুর রহমান
***৩৫তম বিসিএস ক্যাডার ও সাবেক সিনিয়র অফিসার, পূবালী ব্যাংক লিমিটেড।
***প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালক: BCS টেকনিক (বিসিএস স্পেশাল প্রাইভেট প্রোগ্রাম)
©©© লেখক: BCS Preliminary Analysis ( বাংলাদেশে  প্রথম বিসিএস প্রিলির সাজেশনভিত্তিক পূর্ণাঙ্গ বই)

1 comment:

Thanks for Comment on our site ...